হরিসেবা ও জীবসেবা

hksamacar
প্রশ্ন : কিভাবে হরিসেবা করা যায়?
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর :
শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্
অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্
ইতি পুংসার্পিতা বিষ্ণৌ ভক্তিশ্চেন্নবলক্ষণা
ক্রিয়েত ভগবত্যদ্ধা তন্মন্যেহধীতমুত্তমম্
যিনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুতে আত্মসমর্পণপূর্বক ব্যবধান (জ্ঞান, কর্ম, যোগ প্রভৃতি) রহিত হয়ে, হরিবিষয়ক শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, পাদসেবন, অর্চন, বন্দন, দাস্য, সখ্য আত্মনিবেদন এই নববিধা ভক্তি আচরণ করেন, তিনিই উত্তমরুপে শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন বলে মনে করি, অর্থাঃ তার শাস্ত্রানুশীলন সার্থক হয়েছে
প্রশ্ন : যারা হরির সেবা করেন, তারা কি জীবের সেবা করবেন না?
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর : হরি অখ- বস্তু, হরির সেবকই যথার্থ জীবের সেবক যারা জীবের বাহ্য চেহারায় মুগ্ধ হয়ে হরির বাহ্য অঙ্গের সেবাকেই হরিসেবা বা জীবসেবা মনে করে, তারা বিবর্তবাদী; তাদের জীবসেবা হয় না- হরির বাহ্য অঙ্গ মায়ার সেবা হয়  এভাবে অনন্তকাল মায়ার সেবা করে নিজের বা পরের মঙ্গল হতে পারে না নারায়ণে দরিদ্রবুদ্ধি হলে নারায়ণের সেবা হলো না- নারায়ণদাস জীবের সেবাও হলো না, মায়ার সেবা হয়ে গেল
বিবর্তের সেবা- মরিচীকার সেবা- ছায়ার সেবা কখনো বস্তুর সেবা নয় তত্ত্ববস্তু একমাত্র কৃষ্ণ, জীব তাঁরই অবিচ্ছেদ্য অংশ আমরা হরির সেবা করব, হরিজনের সেবা করব যারা হরিজনকে বুঝতে পারছে না, তাদেরও সেবা করব, যাতে তারা হরিজনকে বুঝতে পারেনতাদের মানসিক শারিরীক সাহায্য করব হরিজনের বিদ্বেষী যারা, তাদেরও সেবা করব- উপেক্ষার দ্বারা ইশ্বরের সেবক আমাদের সর্বোত্তম অকৃত্রিম বন্ধু তাদের সঙ্গেই মিত্রতা করব আমার যে সকল বন্ধু ধারণা শক্তির অভাবে ক্ষাত্র ধর্ম, বৈশ্যধর্ম, শুদ্রধর্মাদি গ্রহণ করেছেন, তাদের কাছে বিষ্ণুসেবার কথা বলব, যদি তারা বিদ্বেষী না হন আর যারা বিদ্বেষী অন্ত্যজ হয়ে পড়েছেন, যারা অজ্ঞেয়বাদী, চার্বাকমতালম্বী, দৈহিক সুখভোগ-সর্বস্ববাদী প্রভৃতি, তাদের সঙ্গে অসহযোগীতা করব

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন